আজকাল মনে দানা বাঁধছে আরাবিয়ানা। ঘুরেফিরে বারবার একটা কথাই মনে আসে,
‘পারফিউমের জগত ছেড়ে আতরের ঘরে ঢুকেও এ্যারাবিয়ান টাইপ আতর এখনো চেখে দেখা
হলো না।’ আতর মাখলাম আর আরাবিয়ানার স্বাদ নিলাম না ব্যাপারটা একটু কেমন
হয়ে গেল না? মন চাচ্ছেও নতুন সুবাসের সাথে পরিচিত হতে, ওদিকে আমাদের দেশের
বেশিরভাগ মানুষের মতো আমারও কড়া ঘ্রাণের এলার্জি।’ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর
একটা দেশের মানুষ তার উপর আবার মেয়েমানুষ। কি যে করি!
সব সমস্যার
মুশকিলে আসান বটিকা আমাদের Sreezon (সৃজন)। আমার দ্বিধান্বিত মনের
আকাঙ্ক্ষা তাদেরকে জানালাম। তারা আমার অসুখের প্রেসক্রিপশন দিল সাথে সাথেই
Meshk- E-Fakher (মেশক-ই-ফাখের)। তবে দামটা শুনে আমার আবার নতুন একটা অসুখ
শুরু হলো। ‘কি বলেন ভাই মাত্র তিন মিলি একটা আতর নেব তাতেই ২২৫ টাকা! থাক
আমার আরবিয়ানা শখ পালতে হবে না।’ Sreezon (সৃজন)-এর পেইজ থেকে আমাকে তখন
উনারা অনুরোধ করে বললেন,’ আপু এটা আমাদের এ্যারাবিয়ান টাইপ আতরের মধ্যে
ইউনিক এবং ওয়ান অফ দ্য বেস্ট প্রডাক্টস। একদিন আপনি কষ্ট করে আউটলেটে এসে
নিজেই যাচাই করে দেখুন। তারপর পছন্দ না লাগলে কিনবেন না।’ উনাদের অমায়িক
কোথায় অনুরোধে ঢেকে গেলার মতো অবস্থা আমার। যাই হোক,শেষমেষ টেস্ট করতে
গেলাম Meshk-E-Fakher (মেশক-ই-ফাখের)। হাতের কব্জিতে একস্টিক লাগিয়েই আমি
বাকরুদ্ধ। এটাকে তো গতানুগতিক এ্যারাবিয়ান টাইপ আতরের মতো মনে হয় না;
অনেক মিষ্টি আর হালকা পাউডারি একটা ভাব আছে। মাস্ক আর অ্যাম্বারের মন
মাতানো এক ঘ্রাণ। কিছুটা ঘন স্বচ্ছ আতরটা শিশির ভিতর থেকেই আপনাকে খুব করে
ডাকতে থাকে। একদম আই সুদিং একটা রূপ তার। অন্যান্য এ্যারাবিন আতরের মতো
উষ্ণও নয়। শীতল শীতল রিফ্রেশিং একটা ভাব। আর কোন কথা না বাড়িয়ে কচকচে
নোটগুলো অনায়াসে বের করে দিলাম।
তাজা, মার্জিত, সাদা কস্তুরীর এই
উজ্জ্বল চকচকে ঘ্রাণের সূচনা হয় ভায়োলেট এবং লিলির ফুলেল নোটের সাথে
ভ্যানিলার সংমিশ্রণে। সাদা পদ্ম ফুল, সাদা কস্তুরী এবং মধু হার্ট এবং বেইজ
নোট গঠন করে।
বুঝলেন আপনারা ‘ভালো জিনিসের দাম একটু বেশিই হয়’। একদম পয়সা উসুল আতর।